Monday, September 2, 2019

ছাগলের দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ তৈরিকরণ পদ্ধতি

ছাগলের দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ তৈরিকরণ পদ্ধতি

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল
ছাগলের দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ তৈরিকরণঃ
আনোয়ার হোসেন মন্ডলঃ

ছাগল পালন থেকে লাভজনক হতে হলে ছাগলকে কাঁচা ঘাস লতাপাতার সাথে নিয়মিত সম্পূরক দানাদার খাদ্য খাওয়াতে হবে। বাচ্চার প্রতি ৫ কেজি ওজনের জন্য দৈনিক ৫০ গ্রাম দানাদার মিশ্রণ দিতে হবে। দুগ্ধবতী ছাগীর জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম খাদ্য দিতে হবে । প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ গ্রাম খাদ্য খাওয়াতে হবে । ছাগলকে দানাদার খাদ্য দুই ভাগে ভাগ করে সকাল বিকাল অর্ধেক করে খাওয়াতে হবে।

কিভাবে তৈরি করবেন ছাগলের খাদ্য?
বাচ্চা ছাগল ও বড় ছাগল বা প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের জন্য আলাদা আলাদা খাবার খাওয়াতে হবে। নিচে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

বাচ্চা ছাগল বা ছাগল ছানার খাদ্য তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ
ক। ছোলা – ২.০ কেজি।
খ। ভূট্টা বা গম ভাঙ্গা - ২.২ কেজি।
গ। তিল বা চীনা বাদামের খৈল – ৩.৫ কেজি।
ঘ। গমের ভূষি – ২.০ কেজি।
ঙ। খনিজ মিশ্রণ – ২৫০ গ্রাম।
চ। লবণ- ৫০ গ্রাম।
বাচ্চা ছাগল বোতলে দুধ খাচ্ছে


বড় ছাগলের খাদ্য তৈরি করতে যা যা লাগবেঃ
ক। ছোলা – ১.৫ কেজি।
খ। ভ’ট্টা বা গম ভাঙ্গা – ৩.৭ কেজি।
গ। তিল বা চীনা বাদামের খৈল -– ২.৫ কেজি।
ঘ। গমের ভ’ষি - ২.০ কেজি।
ঙ। খনিজ মিশ্রণ – ২৫০ গ্রাম।
চ। লবণ- ৫০ গ্রাম।

খাদ্য তৈরি করণঃ
ছাগলের খাদ্য উপকরণ গুলো নিয়ে মেঝের উপর পলিথিন বিছিয়ে সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে । এরপর ১ কেজি মেপে মেপে পলিথিন ব্যাগে ভরে মুখ শক্ত করে বেঁধে খাদ্য রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে খাদ্য উপকরণ যেন স্যাতস্যাতে না হয় ।

Tuesday, August 6, 2019

ইমপ্ল্যান্ট ও ইমপ্ল্যানন কি ? ব্যবহারে সুবিধা-অসুবিধা

ইমপ্ল্যান্ট ও ইমপ্ল্যানন কি ? ব্যবহারে সুবিধা-অসুবিধা

পোষ্টে যা যা পাবেন

  • ইমপ্ল্যান্ট (Implant) কি ?
  • ইমপ্ল্যানন (Implanon)  কি ?
  • জ্যাডেল (Jadelle) কি ?
  • কখন একজন মহিলাকে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ করা যাবে?
  • ইমপ্ল্যান্ট কিভাবে কাজ করে?
  • ইমপ্ল্যান্ট-এর সুবিধা?
  • ইমপ্ল্যান্ট-এর অসুবিধা?
  • ইমপ্ল্যান্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও করণীয়?
  • ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ স্হানের উপসর্গ?
  • ইমপ্ল্যান্ট সেবা কোথায় পাবেন?
  • ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করার পর যে সমস্ত কারণে সেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে?

ইমপ্ল্যান্ট (Implant) কি ?

ইমপ্ল্যান্ট শুধুমাত্র প্রজেস্টোরেন হরমোন সমৃদ্ধ অস্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যা মহিলাদের বাহুতে চামড়ার নিচে স্থাপন করা হয় ।ইমপ্ল্যান্ট প্লাস্টিক বা সিলিকন রাবারের তৈরি এক বা একাধিক ক্যাপসুল বিশিষ্ট ডিভাইস, যার ভিতরে কৃত্রিম প্রজেস্টোরেন হরমোন থাকে । চামড়ার নিচে স্থাপনের পরপর ক্যাপসুলের গায়ের অসংখ্য অনুবীক্ষণিক ছিদ্র দিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে ।
৩-৫ বছর মেয়াদি এই পদ্ধতির কার্যকারিতার সময় নির্ভর করে এর রডের সংখ্যা এবং হরমোনের ধরনের উপর ।
২০০৯ সালের পূর্বে বাংলাদেশে ৫ বছর মেয়াদী ৬ রড বিশিষ্ট নরপ্ল্যান্ট ছিল একমাত্র ইমপ্ল্যান্ট।



ইমপ্ল্যানন (Implanon)  কি ?

ইমপ্ল্যানন এক বছর মেয়াদী তিন রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট। এটি একবার ব্যবহার উপযোগী একটি জীবাণুমুক্ত প্রয়োগযন্ত্রের ভিতর ভরা থাকে।

জ্যাডেল (Jadelle) কি ?

জ্যাডেল দুই রড বিশিষ্ট ৫ বছর মেয়াদী ইমপ্ল্যান্ট। জ্যাডেল এর দুটি সিলিকন ক্যাপসুল (সাইলাস্টিক টিউব) ও ট্রকার ক্যানুলা জীবাণুমুক্ত প্যাকেটে থাকে।

কখন একজন মহিলাকে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ করা যাবে-
  • মাসিক শুরুর ১-৭ দিনের মধ্যে।
  • মিশ্র খাবার বড়ি গ্রহীতারা যা করবেন-
    --সাদা বড়ি খাওয়ার পরদিন
    --আয়রন সহ সবগুলো বড়ি খাওয়ার পরদিন
  • প্রসব পরবর্তী সময়ে-
    --মা বুকের দুধ খাওয়ালে ৬ মাস পর
    --বুকের দুধ না খাওয়ালে সাথে সাথে
  • গর্ভপাত হলে সাথে সাথে।
  • গর্ভ নেই নিশ্চিত থাকলে যেকোন সময়ে
ইমপ্ল্যান্ট কিভাবে কাজ করে-
  • ডিম্বস্ফুটন রোধ করে । 
  • ইমপ্ল্যানন পুরো ৩/৫ বছরই সম্পূর্ণরূপে ডিম্বস্ফুটন রোধ করে ।
  • সারভিক্সের নিঃসরণের বা শ্লেষ্মার ঘনত্ব বাড়ায় ।
  • এন্ডোমেট্রিয়াম এর পুরুত্ব কমিয়ে দেয় ।

ইমপ্ল্যান্ট-এর সুবিধা
  • খুবই কার্যকর ।
  • দীর্ঘমেয়াদি ।
  • খুলে ফেলার প্রায় সাথে সাথেই গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে।
  • নবদম্পতিরাও ব্যবহার করতে পারেন ।
  • যৌনইচ্ছা বা যৌনমিলনে বাধার সৃষ্টি করে না ।
  • প্রসব পরবর্তী মা যারা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তারা সন্তানের বয়স ৬ সপ্তাহ পর থেকেই এটি ব্যবহার করা যায় ।
  • যারা ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না তাদের জন্য এটা একটি উপযুক্ত পদ্ধতি ।
    ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ পদ্ধতি
আরো পড়তে পারেনঃ  নবজাতকের বিপদ চিহ্ন সমূহ

ইমপ্ল্যান্ট-এর অসুবিধা
  • মাসিকের স্রাবের ধরন পরিবর্তন করে।
  • প্রজেস্টরেন হরমোনে সংবেদনশীল এমন মহিলা এটি ব্যবহার করতে পারেন না ।
  • কখনো কখনো বাইরে থেকে বোঝা যায় ।
  • পরতে ও খুলতে হলে সেবাদান কেন্দ্রে যেতে হয় ।

নিচে ভিডিওটি দেখতে পারেনঃ




ইমপ্ল্যান্টের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও করণীয়
  • দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব হতে পারে ।
  • বেশিদিন ধরে অল্প অল্প রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব । এই সম্যসাটির হার খুবই কম এবং প্রথম কয়েকমাস পর এমনিতেই ভাল হয়ে যায় ।
  • মাসিক বন্ধ থাকতে পারে (কিছু কিছু মহিলা এটিকে সুবিধা হিসেবে গণ্য করেন)
  • মাথাধরা, বমি বমি ভাব, ওজন বৃদ্ধি পাওয়া বা কমে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে ।
  • অবসাদ দেখা দিতে পারে ।
  • স্তনে ব্যথা বা ভারী লাগা বোধ হতে পারে।
  • তলপেটে ব্যথা হতে পারে (পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত হতেও পারে বা নাও হতে পারে)।
  • উল্লেখিত সম্ভাব্য জটিলতার যে কোনোএকটি দেখা দিলেই হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ স্হানের উপসর্গঃ

*ব্যথা
*লাল হয়ে যাওয়া
*ফুলে যাওয়া
*হেমাটোমা
*সংক্রমণ
* ইমপ্ল্যান্ট রড বেড়িয়ে যাওয়া

আরো পড়ুনঃ কচু, কচু পাতা, কচু শাঁক এর উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ

ইমপ্ল্যান্ট সেবা কোথায় পাবেন

ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনে অভিজ্ঞ ডাক্তার বা সেবাদানকারীর সাহায্য নিতে হবে। আমাদের দেশে প্রতিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্বীকৃত এনজিও/ বেসরকারি ক্লিনিকে ইমপ্ল্যান্ট সেবা পাওয়া যায় ।

ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করার পর যে সমস্ত কারণে সেবাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে-
  • মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে ।
  • ইমপ্ল্যান্ট রড স্থাপনের জায়গায় সংক্রমণ হলে ।
  • তলপেতে প্রচন্ড ব্যথা হলে ।
  • ইমপ্ল্যান্টের কোনো রড বের হয়ে আসলে ।
  • অতিরিক্ত রক্তস্রাব হলে ।
  • প্রচন্ড মাথা ব্যথা হলে বা চোখে ঝাপসা দেখলে ।

এছাড়াও যেকোন সময়ে যে কোন প্রয়োজনে আপনার নিকটস্হ পরিবার কল্যাণ সহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন । অথবা নিকটস্হ কমিউনিটি ক্লিনিকে/হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

তথ্যসূত্রঃ
গুরুত্বপূর্ণ লিংক সমূহঃ


আরো সেবাঃ

গুরুত্বপূর্ণ লিংক

Monday, August 5, 2019

কুতুব উদ্দিন শাহ্ (বুরুজ) পাগল পন্হী ফকির এর জীবন কাহিনী

কুতুব উদ্দিন শাহ্ (বুরুজ) পাগল পন্হী ফকির এর জীবন কাহিনী

কুতুব উদ্দিন শাহ্ (বুরুজ) পাগল পন্হী ফকির এর জীবন কাহিনী


করিম শাহ্ পাগল পন্হী ফকিরের উত্তরসূরী সেকান্দার আলী সাহেবের ছেলে কুতুব উদ্দিন শাহ্, শাহ্ পাহল পন্হী

(বুরুজ) নামে পরিচিত। তার জন্ম ১৯০১ সালে। তিনি অনেক কষ্ঠে কঠিন সাধনায় উপনীত হয়ে এবং সেই সাধনায় ফুল ফুটিয়ে ছিলেন। তিনি মাঝে মাঝে পিতার পূর্ব পুরুষ দের মাজারে ও শিষ্যদের বাড়িতে যেতেন এবং করিম শাহ ও টিপু শাহের অনুসারে চিতিয়া খানদানে মোহাম্মদীয়া তরিকায় বায়ত করতেন।


তাদেরকে বলতেন - মিথ্যা বলা, চুরি, ডাকাতি, জুয়া, মদপান, যিনা ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। নামায আদায় করতে হবে ও রোযা রাখতে হবে। আর মুরিদগণ তা মেনে চলতেন। এভাবে দিন অতিবাহিত হয় । তষনকার সময় জামালপুর ও শেরপুর থেকে আসার সময় তিনি হাতিতে চলাফেরা করতেন । পাগল সাহেব হাতিকে যদি বলতেন যিকির কর, তবে হাতি মাথা নেড়ে যিকির করত। তাতেই মানুষ বুঝত যে হাতি যিকির করছে।

সূত্রঃ গুগল, ফেসবুক

Sunday, July 28, 2019

গবাক্ষি বা শেওড়া গাছের উপকারিতা

গবাক্ষি বা শেওড়া গাছের উপকারিতা

গবাক্ষি বা শেওড়া গাছের উপকারিতা

শেওরা গাছ পরিচিতিঃ

প্রথমেই বলে রাখি বাংলাদেশ এই গাছটির প্রচলিত নাম শেওড়া। চলতি কথায় আমরা একে শাঁরা গাছ বলে ডাকি। বাংলায় একটা কিংবদন্তি আছে যে এ গাছে পেত্নী বাস করে। তাই কোন কুরূপা মেয়ের রূপের সঙ্গে তুলনা করে বলে শারা পেত্নী। অবশ্য পরবর্তীকালে এর একটি নাম ভূতাবাসো বলা হয়েছে। এর কারণ এর মূল দেশে সাপ ও বিছে থাকতে ভালোবাসে। এ গাছটিকে হিন্দি পাশাপাশি অঞ্চলে শাহরা, বাসি হরি বলে উড়িষ্যার অঞ্চলে শাহারা বলে। এই গাছ বাংলা বিহার উড়িষ্যা মধ্যপ্রদেশ আরো অন্যান্য অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে জন্মে। তবে খুব উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে হতে দেখা যায় না। পাতা কাটলে বা গাছ কাটলে দুধ বের হয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে ফুল হয় আকারে মটর এর মত হলদে রঙের ফল হয়। পাকে জুন মাসে। এর আরেক নাম ক্ষীর নাশ। কারণ পাতা ছাগীকে খাওয়ালে দুধ চলে যায়।

এই গাছটি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রথা চলে যে,
যাদের বউ বাঁচে না তাদের পুনর্বার বিয়ের দিনে এই গাছের সঙ্গে আগে মালাবদল করে তারপর বিয়ে করে থাকেন। 

আরেকটি তথ্য -
ছাগল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই গাছের একটি পাতা ছাগলের জিভের তলায় দিয়ে দেয়। তাহলে সে জোরে ডাকতে পারে না। শুধু গো গো শব্দ করে।

রোগব্যাধিতে শেওড়া গাছের ব্যবহারঃ
১। অর্শ রোগেঃ
শেওরা ছালের রস 30 ফোটা মাত্রায় আধ কাপ দুধের সঙ্গে সকালে ও বিকালে দুই বার খাওয়ালে প্রথমে অর্শের রক্ত পড়া বেড়ে যাবে, তারপর ওই রসে পাক করা ঘি 1 চা চামচ করে দুধের সঙ্গে খেলে ওটা সেরে যাবে। তবে প্রথমে একটু না বৃদ্ধি হলে অর্শের বলি চুপসে যাবে না। তাই প্রথম রস করে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দ্রব্য শক্তিতে একটু বাড়িয়ে নেওয়া।

২। কোষ্ঠবদ্ধতাঃ
এটা যাদের সাময়িক নয় প্রত্যহ ওই অসুবিধে টাই ভুগে থাকেন, তারা শেওড়া পাতা অথবা মূলের চালের রস দিয়ে ঘি পাক করে রাখবেন। প্রত্যহ প্রাতে আধ বা 1 চা চামচ করে একটু গরম দুধের সঙ্গে কিছুদিন খেয়ে দেখুন ওই কোষ্টবদ্ধের ধাতটা বদলে যাবে।

৩। হাঁপানি ও কাশিঃ
সকালে উঠলেই অচল। এটাতে যদিও সারবে না তবু উপশম তো হবে। আধ চা চামচ ঘি এর সঙ্গে দুই চার ফোঁটা শেওরা ছালের রস মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এটাতে কিছুক্ষণ ভালো থাকবেন। তবে আরো বেশি সময় ভালো থাকবেন, যদি চিরতার গুঁড়ো সিকি বা আধা গ্রাম এর সঙ্গে মিশিয়ে চেটে খেয়ে ফেলবেন

৪।শ্লীপদে বা গোদে (Filaria):
লজ্জাকর রোগ, সর্বদা ভয়, কেউ না দেখে ফেলে, কিন্তু ঢাকা কি যায়? এ রোগে মুক্তি পাওয়ার জন্য গোমূত্র খেলে যদি এ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়, সেটা কি ভালো না? তাই বলছি- শেওরা ছালের রস আধ বা 1 বা দুই-তিন চাচামচ গোমূত্রের সঙ্গে মিশিয়ে প্রত্যহ সকালে একবার করে খান তবে স্বাস্থ্য ভালো থাকলে বৈকালে দুইবার খাবেন। তবে সবত্সা হওয়ার পূর্বের যে গরু তার মূত্র হলেই ভাল হয়।

৫।দাঁতের পাথুরীতেঃ
দাঁতের গোড়ায় পাতুরি জন্মে যাদের তারা শেওড়া গাছের ছাল চূর্ণ কোন মা জনের সঙ্গে সিকি ভাগ মিশিয়ে সেই মাজন দিয়ে দাঁত মাজুন এর দ্বারা দাঁতের গোড়ার পাথরগুলি হয়ে উঠে যাবে

৬। শ্বেতির দাগেঃ
শেওরা বীজের তেল শেতের দাগে লাগালে এক মাসের মধ্যে ওগুলি মিলিয়ে যেতে শুরু করবে। তবে যেখানে লোম উঠে না, সেখানে কোনো কাজ হয় না। অন্য জায়গায় স্বাভাবিক হয়।

Tuesday, July 9, 2019

আইনত সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণ এবং অভিভাবকত্ব হারানোর কারণ

আইনত সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণ এবং অভিভাবকত্ব হারানোর কারণ

আইনত সন্তানের অভিভাবকত্ব নির্ধারণ এবং অভিভাবকত্ব হারানোর কারণঃ

যারা নাবালক, নির্বোধ ও উন্মাদ এবং যারা নিজের দেখাশোনা নিজে করতে অক্ষম তাদের ভরণপোষণ, আদর-যত্ন, শারীরিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব হচ্ছে অভিভাবকদের।
অভিবাবকত্ব
মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবাই সন্তানের প্রকৃত অভিভাবক। মুসলিম আইনে মা সন্তানের অভিভাবক হতে পারে না।

অভিভাবকের দায়িত্ব :

সন্তানের বেড়ে ওঠা, চরিত্র গঠন, নিরাপত্তা বিধান আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা। সন্তানের সম্পত্তির অভিভাবকত্ব অর্থাৎ সন্তানের সম্পত্তির দেখাশোনার আইন সম্মত দায়িত্ব পালন, সম্পত্তি রক্ষা ও সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয় আইন সম্মত ভাবে ব্যবহার করা।

সন্তানের বিবাহের অভিভাবকত্ব অর্থাৎ সন্তানের আইনসম্মত বয়সে দেশের প্রচলিত আইনে সন্তানের বিবাহের ব্যবস্থা করা।

বাবা মার বিবাহ বিচ্ছেদ হলে ছেলে সাত (৭) বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে সাবালিকা পর্যন্ত মার কাছেই থাকবে কিন্তু তাদের ভরণপোষণ বাবা কেই বহন করতে হবে। অবিবাহিতা মেয়ের বিবাহের খরচ বাবা কে বহন করতে হবে।

অন্যভাবে বলা যায় একজন অভিভাবক তার পরিবারের পোষ্যদের জন্য যেসব দায়িত্ব পালন করেন তা নিম্নে দেয়া হলঃ


১। ভরণ পোষণ করা।
২। দেখাশোনা করা।
৩। খোঁজ খবর নেয়া।
৪। আদর যত্ন করা
৫। নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা।
৬। সমাজে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
৭। পরিবারের পোষ্যদের সার্বিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।


অভিভাবকের দায়িত্ব কে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে শ্রেণীবিভাগ করা যায়। নিম্নে আইনগত ও মানবিক দিক বিবেচনা করে অভিভাবকের দায়িত্ব কে তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। যথাঃ

১। আইনগত দায়িত্ব
২। সামাজিক দায়িত্ব
৩। নৈতিক দায়িত্ব

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ করা হচ্ছে অভিভাবকের অর্থাৎ পিতার আইনগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন না করলে সন্তানেরা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে অভিভাবকের নিকট থেকে আইনত ভরণপোষণ আদায় করতে পারে। কর্মক্ষম সাবালক ছেলের ভরণ পোষণ করা পিতার সামাজিক বা নৈতিক দায়িত্ব।

আরো পড়ুনঃ

শিমুল গাছের মূল যেসব রোগের কাজ করে

জিম্মাদারিত্ত

মুসলিম পারিবারিক আইনে সন্তানের জিম্মাদার হচ্ছে মা। এই আইনে একজন মা নিম্নবর্ণিত সময় পর্যন্ত তার সন্তানের যিম্মাদার থাকতে পারেন যেমনঃ

১। ছেলের সাত বছর বয়স পর্যন্ত।
২। মেয়ে সাবালিকা পর্যন্ত।

সন্তান নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মায়ের কাছে আইনত থাকার নির্দেশ থাকলেও মা কোন কোন ক্ষেত্রে সন্তানের জিম্মাদরিত্ব হারায় মায়ের জিম্মাদারী হারানোর কারন সমুহঃ

১। মা অসৎ জীবন যাপন করলে।
২। মা সন্তানের দায়িত্ব পালনে উদাসীন ও অপারগ হলে।
৩। মা যদি তার নিকট আত্মীয় রক্তের সম্পর্কের এমন কাউকে বিবাহ করে যার সাথে তার মেয়ের বিবাহ হওয়ার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই।

আরো পড়ুনঃ

জন্ডিস রোগের মালাপড়া তৈরির নিয়ম

Sunday, July 7, 2019

খাস জমি গ্রহণের নিয়ম ও উপযোগীতা

খাস জমি গ্রহণের নিয়ম ও উপযোগীতা

খাস জমি গ্রহণের নিয়ম ও উপযোগীতাঃ
খাসজমি

খাস জমির ধারণা

যে জমির মালিক সরকার তাকে খাস জমি বলে।
সরকারি ভূমি অফিসে ৮ নম্বর রেজিষ্টারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত সকল জমি খাস জমি। ভূমি সংস্কার অভিযানের আওতায় বন্দোবস্ত প্রদানের জন্য খাস কৃষি জমির মধ্যে নিম্নোক্ত জমি অন্তর্ভুক্ত হবেঃ

১। নদী গর্ভ সমুদ্রগর্ভ থেকে জেগে ওঠা জমি।
২। কালেক্টর পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে এমন খাস কৃষিজমি এর আওতায় আসবে।
৩। মালিকানা এবং দাবিদার ছাড়া জমি যা এখন নিরুদ্দেশ বা মৃত মালিকের নাম রেকর্ডভুক্ত আছে।
৪। সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে এমন খাস কৃষিজমি এর আওতায় আসবে।
৫।বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি সংস্থার অধীনে নেস্ত কৃষি উপযোগী পতিত অথবা চাষাদীন জমি পুনর্গ্রহণ সাপেক্ষে।

খাস জমির প্রকারভেদ

খাস জমি দুই ধরনের। যেমন :
১। কৃষি খাস জমি
২। অকৃষি খাস জমি

ভূমিহীন পরিবারের সংজ্ঞা:

সহজ কথায় বললে বলা যায়, যার ভূমি নেই সেই ভূমিহীন। সরকারি মতে ভূমিহীন পরিবারের সংজ্ঞা হচ্ছে,

১। যে পরিবারের বসতবাড়ি এবং কৃষি জমি নেই কিন্তু পরিবারটি কৃষি নির্ভর।
২। যে পরিবারের বসতবাড়ি আছে কিন্তু কৃষি জমি নেই অথচ কৃষি নির্ভর।
৩। যে পরিবারের বসতবাড়ি এবং কৃষি জমি আছে কিন্তু এর মোট পরিমাণ ১০ শতাংশের কম অথচ কৃষি নির্ভর।

ভূমিহীন হওয়ার কারণ

১। ভূমি অধিগ্রহণ।
২। জাল দলিল।
৩। অবৈধ পর্চা প্রস্তুত।
৪। অবৈধ নামজারি।
৫। দুর্নীতি পরায়ন জরিপ।
৬। সম্পত্তির অবৈধ বন্দোবস্ত।
৭। মামলা মোকাদ্দমা।
৮। নদী ভাঙ্গন।
৯। প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
১০। জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
১১। বদ অভ্যাস।
১২। সচেতনতার অভাব।

ভূমিহীনদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমি প্রাপ্ত ব্যক্তি

১। শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা।
২। নদীভাঙ্গা পরিবার।
৩। সক্ষম পুত্র সহ বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা পরিবার।
৪। কৃষি জমিহীন ও বাস্তুভিটাহীন পরিবার।
৫। অধিগ্রহণের ফলে ভূমিহীন হয়ে পড়েছে এমন পরিবার
৬। 10% বসতবাড়ি আছে কিন্তু কৃষি যোগ্য জমি নেই এবং এরূপ কৃষি নির্ভর পরিবার
৭। অন্যান্য পরিবার

ভূমিহীনদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান করার নিয়ম

১। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেলা তথ্য অফিসার জেলার বড় বড় হাট বাজারে লোক সমাগমের দিনে মাইক যোগে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করবেন।

২। উপজেলার অথবা থানার সকল বাজারের ইজারাদার এবং ইউনিয়নের দফাদার, মহলাদারদের নিকট থেকে ঢোলসহরত এর মাধ্যমে ব্যাপক হারে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে হবে এবং তাদের নিকট থেকে তামিল রিপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।

৩। উপজেলার থানার সকল অফিস রাজস্ব অফিস, থানা, ইউনিয়ন, তহশীল ইত্যাদি সকল অফিসের নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টাঙ্গাতে হবে। বিভিন্ন সমিতিতে এ সম্পর্কে জানাতে হবে। উক্ত সময় উপজেলার মাসিক সভায় আলোচনার জন্য এই প্রচার কার্যক্রম কে আলোচ্যসূচি ভূক্ত করতে হবে।

৪। উপজেলা থানার সকল কর্মকর্তাকে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র দের উপজেলা থানা পরিষদ থেকে পত্র দিয়ে দরখাস্ত পূরণে ভূমিহীনদের সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানাতে হবে।

খাস কৃষি ও অকৃষি জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন ও অন্যান্য বিষয়

১। সহকারী কমিশনার ভূমি এর নিকট সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত পেশ করতে হবে।

২। দরখাস্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার কর্তৃক সত্যায়িত দুই কপি ফটো জমা দিতে হবে।

৩। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিক সার্টিফিকেট দিতে হবে।

৪। জমি স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়া হবে তবে বিধবা এর ক্ষেত্রে একক নামে দেওয়া হবে।

৫। ভূমিহীন একটি পরিবার কতটুকু খাস জমি পাবে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। পরিমাণ অনুযায়ী জমি পাবে।

৬। বরাদ্দকৃত খাস জমি উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য কোনভাবে কারো নিকট হস্তান্তর করা যাবে না করা হলে তার বরাদ্দ বাতিল হয়ে তা খাস জমিতে পরিণত হবে।

খাস জমি নীতিমালা

১। খাস জমি বিক্রয় করা যাবে না।

২। খাস জমি দান, এওয়াজ বদল করা যায় না।

৩। খাস জমির মালিকানা উত্তরাধিকার সূত্র ছাড়া পরিবর্তন করা যায় না।

৪। খাস জমি বর্গা দিলে মালিক ওই জমির অধিকার হারাবেন।

৫। স্বামী তার স্ত্রীকে নির্যাতন করলে সম্পূর্ণ খাস জমির মালিক হবেন তার স্ত্রী। এক্ষেত্রে জমির বরাদ্দ দেওয়া হবে স্ত্রীর নামে।

৬। খাস জমি বন্ধক দেওয়া যাবে না।

৭। খাস জমি পতীত রাখা যাবে না।

৮। খাস জমি প্রাপ্ত দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ হলে উভয়েই সম্পত্তি হারাবে, সরকারি খাতে চলে যাবে।